রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে শখের ছাদবাগানে এখন ৩৫০ ধরনের ক্যাকটাস সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

বার্তাকক্ষ
আজকের তারিখঃ রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
শখের ছাদবাগানে ক্যাকটাস সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

শখ থেকেই সংগ্রহ শুরু ক্যাকটাস গাছের। সেটাকে পূঁজি করে পাবনার ঈশ্বরদীতে এনামুল হক দম্পতি গড়ে তুলেছেন ক্যাকটাসের বাগান। শখ পূরণে তার বাগানে এখন দেশিবিদেশি মিলিয়ে সংখ্যায় সাড়ে তিন শতাধিকের বেশি ক্যাকটাস সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। দৃষ্টিনন্দন ক্যাকটাসগুলো সারি সারি টবে সাজানো। 

লক্ষ্য তাদের এক হাজার প্রজাতের ক্যাকটাস সংগ্রহশালা গড়ে তোলা। শুধু ক্যাকটাসই নয়, সাথে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির এঞ্জেল উইং, ক্রিসমাস, প্যারোডিয়া, ব্যারেল, স্যানসেভিরিয়া, স্টিয়ারিং,সাকুলেন্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, ইনডোর, অ্যাডেনিয়াম, কাঁটামুকুট, কাঠগোলাপ, পাথরকুচি সহ দেশিবিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

নান্দনিকভাবে ঘরকে সাজাতে ক্যাকটাসের ব্যবহার এখন প্রায় বাসা বাড়িতে বা অফিসে দেখা যায়। ক্যাকটাস মরুর দেশের উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশ পরিবেশের সাথে খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। বাসা বাড়িতে অফিসে প্রতিনিয়তই ক্যাকটাস সংগ্রহ বাড়ছে, বাড়ছে  প্রয়োজনীয়তা।

২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে এনামুল হক দম্পতি শখের বশে ছাদ বাগান শুরু করলেও এখন এই বাগান থেকে মাসে গড়ে আয় হয় ৩০ হাজারের মতো। মাসে কমবেশি ১৫০টির মতো চারা বিক্রি হয়। একেকটার দাম গড়ে ২০০ টাকা। জুই জুথি নামে ফেসবুকে একটি পেজও চালান এই দম্পতি।

এনামুল হকের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জুথি জানান করোনাকালীন সময়ে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায়  ছাদ বাগান করার পরিকল্পনা মাথায় আসে সময় এক বড় আপুর মোবাইল ফোনের মাধ্যেমে ক্যাকটাস সম্পর্কে জানতে পারি। সেই থেকে ক্যাকটাস সংগ্রহ শুরু করি। প্রথমে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অনলাইনে ঢাকা থেকে ক্যাকটাস সাকুলেন্ট জাতের অল্প কিছু চারা সংগ্রহ করি। এখন ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া চায়না থেকে ক্যাকটাসের চারা সংগ্রহ করে থাকি।  

ছাড়াও তার বাগানে কিছু আছে মরুভূমি অঞ্চলের ক্যাকটাস। এগুলোর মধ্যে কটন কোরাল, ব্লোসফেলডীয় লিলিপুটানা, ফিশ হুক, গোল্ডেন ব্যারেল, ওল্ডমেন, ওল্ডলেডি, লিথোপ, ইচিনো, নোটো, অপন্তিয়া, ইউফরবিয়া, রোজ ক্যাকটাস উল্লেখযোগ্য।

এনামুল হক জানান, ক্যাকটাস বা সাকুলেন্ট ছোট বেলা থেকেই আমার পছন্দ। করোনাকালীন সময় অফিস বন্ধ থাকায় আমি আমার স্ত্রী নতুন নতুন ক্যাকটাস সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সংগ্রহ শুরু করে পরিচর্যা দেখাশোনা শুরু করি। বর্তমানে বাগানে সফলতা এসেছে। বাগানটি এখন বাণিজ্যিকভাবে রূপ নেওয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনলাইনে ক্রেতারা অর্ডার করে থাকেন। অর্ডারকৃত চারা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। 

তিনি আরও জানান ক্যাকটাস ভিন্ন ভিন্ন টবে তো বটেই, ইচ্ছা হলে কিছুটা বড় টবে একত্রে কয়েক জাতের ক্যাকটাস লাগিয়ে দিলেও দেখতে ভালো লাগবে। কাঠ, বাঁশ বা রডের তৈরি স্ট্যান্ড বানিয়ে নিলে অনায়াসেই নান্দনিকভাবে গুছিয়ে ক্যাকটাস বাগান করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান ক্যাকটাস মরুভূমির উদ্ভিদ হলেও ইনডোর প্ল্যান্ট বা ছায়াবান্ধব গাছ হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। হয়তো মরুভূমির পরিবেশের মতো বেড়ে উঠছে না, কিন্তু অনেক দেশের মতো আমাদের দেশেও ক্যাকটাস বেড়ে উঠছে এবং তাতে যে আবার ফুলও ফুটছে, তা আজ প্রমাণিত। অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকটি বলতে গিয়ে তিনি জানান, এখন সহজেই ক্যাকটাসের চারা উৎপাদন সম্ভব। সে ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ক্যাকটাসের চারা উৎপাদন বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবসাসফল হওয়া সম্ভব৷


এই বিভাগের আরো খবর........
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !