শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
ঈদ এলেও তাদের স্বপ্ন বাড়ি যায় না ঈশ্বরদীতে ঈদ বাজারে শেষ মুহূর্তে বিক্রি বেড়েছে প্রসাধনী সামগ্রীর ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পিতা : চির বিদায় ঈশ্বরদীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় সভা ঈশ্বরদীতে মুড়ির ফ্যাক্টরি সহ তিন প্রতিষ্ঠানে অভিযান,জরিমানা ৮০ হাজার টাকা ঈশ্বরদীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত ঈশ্বরদীতে ধানক্ষেত থেকে মেছো বাঘ উদ্ধার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে প্রস্তুতি সভা ঈশ্বরদীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন-সমন্বয় কমিটির সভা

যারা দূর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজকে তারাই শেখ হাসিনাকে দূর্নীতিবাজ বলে

বার্তা কক্ষঃ
আজকের তারিখঃ শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত শ্রমিকলীগ নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশীদু্ল্লাহ বলছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে দূর্নীতি করে যারা দূর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজকে তারাই শেখ হাসিনাকে দূর্নীতিবাজ বলে অথচ শেখ হাসিনা বিশ্বের বুকে দেশকে একটি উন্নয়নের মহাসড়কে পরিনত করেছেন।

রোববার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত নওদাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাজনীতিকে দূর্বৃত্তয়ানের ধারা তৈরী করে রাজনীতিকে অসৎ পথে পরিচালিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান মন্তব্য করে উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশীদু্ল্লাহ বলেন, ১৯৭৫ সালে ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে সেনা ছাওনী থেকে ক্ষমতা গ্রহন করে। ক্ষমতা গ্রহন করেই সে বলেছিল, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম, আই উইল মেক পলিটিক্স’। জিয়াউর রহমানই রাজনীতিকে অসৎ পথে পরিচালিত করার ধারা সৃষ্টি করে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা পরাজিত হয়েছিল, যারা বিরোধীতা করেছিল, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল, তাদেরকে জিয়াউর রহমান সহযোগীতা করে,পূনর্বাসন করে তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে রাজকারদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল ওই জিয়াউর রহমান।

রশীদু্ল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি কলুষিত হয়ে গেছে, কলুষিত হওয়ার,ভেতর দিয়ে,আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে হয়েছে। সামগ্রিক দেশের পরিস্থিতির ভেতর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাকান্ডের থেকে যিনি বেঁচে গিয়েছেন, উনি বিদেশ থেকে এসে আওয়ামীলী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা অত্যান্ত প্রতিকূল পরিবেশ, জীবনের হুমকী সামনে নিয়ে রাজনীতিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার সাহসীকতায় মুগ্ধ। শেখ হাসিনা বারবার হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়েছেন কিন্তুু রাজনীতিতে পিছুপা হননি। বাঙালির মুক্তির জন্য, বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এগিয়ে গেছেন।

পাবনা জেলা আওয়ামীলী লীগের কার্যকরী সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশীদু্ল্লাহ বলেন,আপনারা জানেন, এই জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া, এরশাদ যারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাই এসেছিলেন, যারা এদেশে হত্যা, ক্রুর রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করেছিল, যারা এদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল,যারা এদেশে লুটপাটের রাজনীতি কায়েম করেছিল, যারা এদেশটাকে দূর্নীতির মহোৎসবে পরিনত করেছিল, বিশ্বে পাঁচবছর দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তারা এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। আজ তাদের পেতাত্মারা রাষ্ট্র মেরামত করতে চাই।

আজকে বিএনপি-জামায়াত ভোটাধিকারের কথা বলে, আজকে তারা দূর্নীতির কথা বলে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যারা দূর্নীতি করেছে। একসময় হাওয়া ভবনকে খুশি না করলে কারো চাকুরী হয়নি, ব্যবসা হয়নি, কোন কাজকর্ম হয়নি, সেই তারাই আজকে নতুন পোষাকে। মির্জা ফকরুল ইসলাম উনি তো নকশাল! উনার পিতা একজন রাজাকার। উনার মুখ থেকে আমরা শুনি দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা শেখ হাসিনা নাকি দূর্নীতি করে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় এদেশের মানুষ চাতক পাখির মত বসে থাকতো, কখন বিদেশি সহায়তা আসবে, বিদেশী সহায়তা না আসলে প্রকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা করা যেত না। আজকে শেখ হাসিনারই নেতৃত্বের কারণে দেশ এগিয়ে গেছে, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় আর বিদেশী সহায়তা নির্ভর করতে হয় না, শেখ হাসিনাকে দূর্নীতিবাজ বলে। আজকে সারা পৃথিবীতে একজন সৎ রাষ্ট্রনায়ক তিননাম্বার সৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্ব যাকে স্বীকৃতি দেয়, সেই শেখ হাসিনাকে বলে দূর্নীতিবাজ। যার ছেলের নামে কোন দূর্নীতির অপবাদ নাই, যার মেয়ের নামে কোন দূর্নীতির অপবাদ নাই, যার আত্বীয় স্বজন যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করলে যদি তিনি টের পান, বুঝতে পারেন। তাকেই আইনের মুখোমুখি করেছে। দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে কেউ দূর্নীতি করে, সমাজের বুকে তার একটি আস্ফালন করে তাকেও আইনের মুখোমুখি, বিচারের মুখোমুখি করেছেন। তাকে দূর্নীতিবাজ বলেন।

আমার প্রশ্ন, তাহলে খালেদা জিয়া কী, তারেক জিয়া কী? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে দূর্নীতি করেছেন, তাদের মুখে দূর্নীতির কথা মানায় না। যারা ভোট চুরি করেছে, ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে,যারা এদেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে, তারা আজকে বলছে, একদলীয় শাষণ।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রশীদু্ল্লাহ বলেন, যে শাষন একটি দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করে, যে শাষণ একটি দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করে, যে শাষণ একটি দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, যে শাষন বিশ্বব্যাংকের তোয়াক্কা না করে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে, যে শাষন বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মান করতে পারে,যে শাষণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে পারে। এটা একদলীয় শাষন না।

অথচো যারা স্বাধীনতাবিরোধী মানবতাবিরোধী কাজ করেছে, তাদেরকে তোমরা প্রশ্রয় দিলে।

তাদেরকে পূণ:বাসণ করলে, তাদের গাড়িতে জাতীয় রক্ত মাখা পতাকা তোমরা তুলে দিলে, তোমরা শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করেছো,তোমরা গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছো, তখন মানবতা কোথায় ছিল। এদেশে মানবিক আচরণের দায় কী শুধুই আওয়ামীলীগের, তোমাদের নাই? আজকে খালেদাজিয়া অসুস্থতা, সে তো সাঁজাপ্রাপ্ত আসামী। যে কারাগারে থাকা অবস্থায়,তার নিজস্ব চাকরকে তার সাথে থাকার,সুযোগটা দিয়েছিল শেখ হাসিনা। আজকে সাঁজাপ্রাপ্ত আসামী হয়ে থাকে বাড়িতে, এটা কি মানবিকতা না? যে কোন হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে, সেটা মানবিকতা না। আজকে শেখ হাসিনাকে বলে অমানবিক।

বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশীদু্ল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার শুরু হয়েছে ষড়যন্ত্র। আমরা,জাতির পিতাকে হারিয়েছিলাম তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, গুজব রটিয়ে মিথ্যাচার করে একবার বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। আর এখন শেখ হাসিনার নামে একই কায়দায় দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করা হচ্ছে। তাই জাতিকে জেগে উঠতে হবে।

শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, বাঙালি জাতিকে স্বপ্ন দেখান। একটা ছোট্র দেশের মানুষ আমরা। আমরাই সমৃদ্ধশালী দেশ হবো। আমরা উন্নত বিশ্বের কাতারে যাব। শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা নেতৃত্বে থাকলেই সোনার দেশ,হবে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হবে।

রশীদু্ল্লাহ বলেন, পাবনা-৪ আসনে আমি মনোনয়ন চাই যে জন্য।রাজনীতির প্রচলিত ধারনাকে পরিবর্তন করতে।রাজনীতি মানে অবৈধ ব্যবসা, রাজনীতি মানে অর্থকরীর মালিক, রাজনীতি মানে প্রভাব খাটানো। আমি এই ধারাকে পরিবর্তন করতে চাই। তার জলন্ত উদাহরণ শেখ হাসিনা। তিনি তার ছেলে মেয়ে নিয়ে যেভাবে চলছে, যেভাবে সততার সাথে দেশ পরিচালনা করছে, আমরা যদি সারাদেশের রাজনীতিকরা সত্যিকার অর্থে দায়িত্ব পালন করতে পারতাম, জনগনের,সেবক হিসেবে কাজ করতে পারতাম,জনগনের কল্যাণে যদি দায়িত্ব পালন করতে পারতাম তবে এদেশ এখনি সোনার দেশে পরিনত হতো। তাই শেখ হাসিনার যে সততা, দক্ষতা, ও বলিষ্ঠতা, তার পাশে থেকে সহযোগীতা করতে চাই।

রশীদু্ল্লাহ আরও বলেন,আমি রাজনীতি করতে গিয়ে বারবার নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি, কারাগারে বারবার মিথ্যা মামলায় গিয়েছি। কারো সাথে আপোষ করিনি কখনো।সেনাবাহিনী আমাকে তিনবার গ্রেফতার করে নির্যাতন করেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে কারাগারে রেখেছিল। মিথ্যা মামলায় অনেকবার কারাগারে গেছি, এদেশের মানুষ আমাকে যে সংবর্ধনা করেছে তা কল্পনা করার মত না। আমি এদেশের রাজনীতির ধারাকে পরিবর্তন করতে চাই। আমি শুরু করতে চাই। ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেব, আবার রাজনীতির ধারা পরিবর্তন করব। আওয়ামীলীগের ভেতরেও পরিবর্তন দরকার। দূর্বৃত্তয়ানের ধারা পরিবর্তন না করতে পারলে নতুন প্রজন্মের মানুষ ও ছেলেরা মেয়েরা পথভ্রষ্ট হবে,ভূল বুঝবে

তাদের পথ দেখাতে হবে, শিক্ষা দিতে হবে, ভবিষ্যৎের বাংলাদেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুপ্রেরণা দিতে হবে।

পাকশী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পাকশী ইউনিটের সভাপতি পলাশ আহমেদ পলাশের সঞ্চালনে বক্তব্য রাখেন

পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা,সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, মুক্তিযুদ্ধ কালীন প্লাটুন কমান্ডার ফজলুল হক বুদু

আইয়ুব আলী মাষ্টার, আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু চৌধুরী, সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল আজিজ, কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক রবিউল ইসলাম রবি, ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহানা পারভিন রুনা।


এই বিভাগের আরো খবর........
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !