শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে আঃলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তোড়তোড়, বিএনপি-জামায়াত তত্ত্বাবধায়কের দিকে তাকিয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি
আজকের তারিখঃ শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তোড়তোড় শুরু।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে; ততই পাবনা (ঈশ্বরদীআটঘরিয়া ) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তোড়তোড় শুরু করেছেন

আসনে অনেক আগে থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্বস্ব দলীয় প্রার্থীর প্রতীক পেতে বিভিন্নভাবে দলিও কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করায় এক রকম আদাজল খেয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কাজ শুরু করেছেন। তারা আটঘাট করে নির্বাচনী ওয়ার্ক চালিয়ে গেলেও বিএনপি, জামায়াত, জাতীয়পার্টিসহ বিরোধী মহলের পক্ষের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। তবুও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণায় নির্বাচনী হাওয়া এখন সর্বত্রে ছড়িয়ে পড়ছে। শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চল, হাটবাজার, চাস্টলে সরব হয়ে ওঠছে।

(ঈশ্বরদীআটঘরিয়া) আসনে আওয়ামীলীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জোরেসরে। একাধিক .লীগের প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশই কেন্দ্রেীয় নেতৃবৃন্দ রয়েছেন। আর বিএনপিজামায়াত নির্বাচন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে। তারা তত্ত্বাবধায়কের দিকে তাকিয়ে আছে।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের এই আসন থেকে বরাবরের মতো এবারও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নতুন পুরাতন মুখ। তবে জোটগত সিদ্ধান্ত আর বিএনপি নির্বাচনমুখি হলে এই আসনে বিএনপির প্রভাবশালী দুই প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন বলে অধিক প্রচারিত

ঈশ্বরদীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন রয়েছেন। অধিকাংশই হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতা। আসনে সব প্রত্যাশীরাই মাঠে ময়দানে কাজ শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেনবর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ রেজাউল রহিম লাল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাবেক ভূমিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর পুত্র পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,গালিবুর রহমান শরীফ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য গবেষণা বিষয়ক উপকমিটি সদস্য, সাকিবুর রহমান শরীফ কনক, কন্যা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও  জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন পিয়া, বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের অর্থ সম্পাদক জালাল উদ্দীন তুহিন, বিশিষ্ট শিল্পপতি, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল আলিম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি সমবায় বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি উত্তরবঙ্গের শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ 

এছাড়াও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার আলী এই আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে নাম শোনা যাচ্ছে। এবার দলীয় নেতাকর্মিরা নানা কারণেই নতুন মুখের দাবি জানাচ্ছেন। বর্তমান সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, দল করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, জেল জুলুম খেটেছি। ঈশ্বরদীবাসীর স্বপ্ন আমার স্বপ্ন। আমাকে আবারও যদি মনোনয়ন দেয়া হয় আর যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবো। সর্বপরি যিনিই নৌকা প্রতীক মনোনয়ন পাবেন আমি তার সাথে কাজ করবো, তিনি যোগ করেন।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানান ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নেতাকর্মিদের সাথে কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবো। তিনি মনোনয়ন দিলে ঈশ্বরদীর মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের সেবা আর সরকারের নানামুখি উন্নয়নের ছোঁয়া বাস্তবায়ন করতে সর্বদা চেষ্টা করবো এমন অভিমত ব্যক্ত করলেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা তাই নেত্রী আমাকে মননোয়ন দিলে ঈশ্বরদীবাসীর স্বপ্ন পূরণে আত্মনিয়োগ করবো।

তত্ত্বাবধায়ক আসলে মনোনয়ন চাইবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজ সরদার। তবে মাঠ জরিপে অবশ্য সিরাজের প্রধান্যতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। অনুরূপভাবে মাঠ গরমের কৌশলে আছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে প্রতিনিধিকে জানান। অবশ্য দুজনই কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন; যদি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে তবে দুজনই মনোনয়নের জন্য লড়াই করবেন বলে দৃশ্যপটে এমনটাই মনে হচ্ছে।

এ দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব নাশকতার মামলায় রায় ঘোষণা হলে হাবীবের  সাজা হয়ে যায়।

সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, হাবিব মূলত আওয়ামীলীগ থেকে আসা বিএনপির হাইব্রিড নেতা। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আসার পরই এই আসনে বিএনপির ভরাডুবির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে; আর দল আমাকে যদি মনোনয়ন দেয়। তাহলে এবারে আসন আর বিএনপির হাত ছাড়া হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

এদিকে জামায়াতের দাবি, জয়ী হওয়ার মতো ভোট ব্যাংক (ঈশ্বরদীআটঘরিয়া) আসনে থাকতেও জোটের স্বার্থে দুবার আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপিকে। কিন্তু বিএনপির ঘরোয়া দ্বন্দ্বে মাসুল গুনতে হয়েছে জামায়াত জোটকে। তত্ত্বাবধায়ক আসলে এখানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল প্রার্থী হবেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলের জেলা নেতৃবৃন্দ। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া জামায়াত নির্বাচনে যাবে না বলে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল স্পষ্টভাবে জানান


এই বিভাগের আরো খবর........
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !