শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত, দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি
আজকের তারিখঃ শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
বৃষ্টির পানি আটকে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষেত।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে দেওয়া বাঁধে বৃষ্টির পানি আটকে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের ক্ষেত খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধ কেটে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করেন এতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানির নিচে থাকা বেশিরভাগ জমির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দাশুড়িয়া সলিমপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রতনাই নদীর চুরিওয়ালা ঘাটে সড়কের ওপরে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে যানবাহন চলাচলের জন্য রতনাই নদীতে বাঁধ দিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে গত সাতদিনের টানা বৃষ্টিতে বাঁধে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল নিমজ্জিত হয়েছে এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছে

চলতি মৌসুমে এলাকার জমিতে শুধু সবজির আবাদ করা হয়। এবার উপজেলার নওদাপাড়া ভাড়ইমারী এলাকার শত শত বিঘা জমিতে গাজর, কপি, মুলা আবাদ করা হয়েছে

কৃষকরা বলছেন, রতনাই নদীর চুরিওয়ালা ঘাটে সড়কের ওপর সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে ফলে যাতায়াতের জন্য বাঁধ দিয়ে অস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে সড়কে পানিপ্রবাহের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি ফলে টানা সাতদিনের বৃষ্টির পানি বাঁধে আটকে ফসলের জমি ডুবে গেছেতারা আরও জানান, জমিতে চাষ করা গাজরের চারা বয়স দুই মাস এসময় জমিতে পানি আটকে থাকায় সব গাছ মরে গেছে এখনো শত শত বিঘা জমি পানির নিচে সবজি ক্ষেত তলিয়ে আছে

সলিমপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বাঁধ দিয়ে নির্মিত সড়কে পানিপ্রবাহের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ফসলি জমি ডুবে গেছে এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে বাঁধের একটি অংশ কেটে দিয়ে পানি অসারণের ব্যবস্থা করেছেন

নির্মাণাধীন সেতুর সাব ঠিকাদার সৈকত বলেন, সেতুর মূল ঠিকাদার শরীয়তপুরের সফল এন্টারপ্রাইজ তারা নির্মাণকাজ শুরুর সময় সেতুর পাশে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করেছিলেন পরবর্তী সময়ে তাদের কাজটি সাব ঠিকাদার হিসেবে আমরা করছি

তিনি বলেন, সেতু ঢালাইয়ের জন্য রড বাঁধাইসহ সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টি না হলে পাঁচদিন আগেই ঢালাই হয়ে যেতো। সেতুর পাশে বিকল্প সড়কে পানি আটকে ফসলের জমির নষ্টের খবর শুনে আমি গিয়েছিলাম। কৃষকদের দুর্দশা দেখে আমি উপজেলা প্রকৌশলীর সেতুর সঙ্গে কথা বলেছি। বাঁধ কাটার বিষয়টিও আমি শুনেছি

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, শত শত ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঁধের কিছু অংশ কেটে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, বাঁধ কাটার পর পানি কমতে শুরু করেছে কিন্তু কৃষকের যা ক্ষতি হওয়ার তাতো হয়েই গেছে


এই বিভাগের আরো খবর........
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !