বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী -বেনাপোল রেলরুটে ১৬৮ ফুট লম্বা রেলব্রিজের সংস্কার কাজ শুরু

বার্তাকক্ষ
আজকের তারিখঃ বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
বেনাপোল-নাভারুন রেলসেকশনের ৯৩ নাম্বার ব্রিজ

প্রায় ১৪০ বছর আগে বৃটিশ আমলের কথা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের খুলনা-বেনাপোল রুটের যশোহরের শার্শা উপজেলার আমরাখালিতে রেলব্রিজ নির্মিত করা হয়েছিল। ঈশ্বরদী -বেনাপোল রেলরুটে ১৬৮ ফুট লম্বা ব্রিজটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যায়ে ১৮০ দিন মেয়াদে রেলসেতুর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০ টা ৩০ থেকে দুপুর ১ টা ১৫ পর্যন্ত মাত্র ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট সময়ের মধ্যে রেলসেতুর পায়ারের ওপর থেকে গার্ডার সরিয়ে সিসিক্রিপে গার্ডার বসিয়ে রেললাইনকে সচল করে ভাড়ী যন্ত্রাংশ গ্যাংকার দিয়ে পরিক্ষা করে ট্রেন চালানো হয়। বুধবার (২৩ মার্চ) বিকাল পৌনে ৪টায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোলগামী মেইল ট্রেন বেতনা এক্সপ্রেস অস্থায়ী ব্যবস্থাপনার রেললাইন অতিক্রম করে।

বেনাপোল-নাভারুন রেলসেকশনের ৯৩ নাম্বার ব্রিজের ৪ পায়ারের ৫ টি স্প্যানের ২ পিলার মাটিতে বসে গিয়ে হেঁলে পড়ছিল। রেলব্রিজের দুইটি পিলারের বেডব্লকে ফাঁটল ধরার কারণে ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল করছিল। সংস্কার কাজে উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধাণ প্রকৌশলী (সেতু) লিয়াকত শরীফ খান, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকোশলী-১ বীরবল মণ্ডল,সেতু প্রকৌশলী নাজিব কায়সার, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী যশোহর, কাজী ওয়ালীউল হক, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজবাড়ি গৌতম বিশ্বাস, ঊদ্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) চাঁদ আহমেদ, ঊদ্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (সেতু) হাসান আলী, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রবিউল ইসলাম রবি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,ঊদ্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভেরামারা সাইফুল ইসলাম, ঊদ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) যশোহর, মাহাবুব হাসান,ঊদ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) রাজবাড়ি হাফিজুল রহমান, ঊদ্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (পথ) মোবারকগঞ্জ, সুমন কুমার বসু,ঊদ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ),খুলনা উৎপল মণ্ডল, ঊদ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজবাড়ি (পথ) জিহাদ হোসেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ঊদ্ধতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (সেতু) হাসান আলী বাংলানিউজকে জানান, ঈশ্বরদী-বেনাপোল রেলরুটের ৯৩ নাম্বার ব্রিজটি একটি মেজর ব্রীজ। এই রুটে একটি আন্তদেশীয় দুটি আন্ত:নগর ট্রেনসহ মালবাহী কয়েকজোড়া ট্রেন চলাচল করে।

রেলরুটটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়াতে পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী দফতর সংস্কারের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকোশলী-১ বীরবল মণ্ডল বলেন, বৃটিশ আমলে রেল চালু করার পর ১৮৮৪ সালের দিকে খুলনা-বেনাপোল রেলরুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল।ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেলসেতুর মোট ৪টি পিলায়ের দুইটি পিয়ার মাটিতে ডেবে বসে যায়, এটা রেললাইন পরিদর্শনের সময় নজরে আসে।

বিষয়টি দ্রুত প্রধান প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করে তার নির্দেশে ১০ কি: মি: গতিতে ট্রেনগুলো চালানো হয়। তারপর টেন্ডারের মাধ্যমে মেরামতের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়। এই রেলরুটটি আন্তদেশীয় রেলরুট। ১৮০ দিন মেয়াদের কাজ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দ্রুতই কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করছি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) লিয়াকত শরীফ খান জানান, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হওয়ার পর রেলসেতুটিতে কোন সংস্কার করা হয়নি। ব্রিজের ৪ পিলারের ৫ টি স্প্যানের ২ পিলার মাটিতে বসে গিয়ে হেঁলে পড়ছিল। রেলব্রিজের দুইটি পিলারের বেডব্লকে ফাঁটল ধরার কারণে ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল করছিল। তাই সংস্কারের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া প্রথম রেলপথ চালুর পর খুলনা-বেনাপোল রুটে রেল চলাচল শুরু হয় ১৮৮৪ সালের শেষের দিকে ব্রিজটি নির্মিত করা হয়।


এই বিভাগের আরো খবর........
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !