শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে শীতের আগমনে লেপ-তোশকের দোকানে স্বচ্ছলদের ভীড়, ছিন্নমূল মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ঋণের মামলায় ঈশ্বরদীর ১২ কৃষক গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ পাবনা মানসিক হাসপাতালে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে দালালচক্রের তিন সদস্য আটক ঈশ্বরদীতে বিএনপির ১৬০ নেতাকর্মীর নামে মামলা ঈশ্বরদীতে অগ্নিকাণ্ডে ফার্মেসি পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি দেশের ২৩ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বুস্টার ডোজ ক্যাম্পেইন ১ থেকে ৭ ডিসেম্বর কোনো ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না হাইকোর্ট অনাবাদি পতিত জমিতে আবাদ বাড়াতে ঈশ্বরদীতে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ‘পদ্মা’ ও ‘মেঘনা’ বিভাগ গঠনের প্রস্তাব উঠছে জাতীয় কমিটিতে

ঈশ্বরদীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামের রাস্তা ইউপি সদস্যের নামে নামকরণ

বার্তাকক্ষ
আজকের তারিখঃ শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫১ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলতলা (মুনসিদপুর) হতে মাধপুর (বগামিয়া) সড়ক পর্যন্ত সরকারি ভাবে ২০ বছর আগে রাস্তার নামকরণ করা হয় ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক সড়ক’। অজ্ঞাত কারণে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে রাস্তাটির নাম পরিবর্তন করে প্রয়াত ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তারের নামে নামকরণ করায় তীব্র অসন্তোষ ও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজী রাজশাহীর পরিচালক গত ১৭/০৪/২০০০ ইং তারিখে প্রত্যয়ন প্রদান করেন, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিন আহমেদের ছেলে তোজাম্মেল হক অত্র প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যায়নকালে ১২/১২/১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে শহীদ হন। তিনিসহ আরও ২ জন শহীদকে ওই প্রতিষ্ঠানে কবরস্থ করা হয়।

শহীদ তোজাম্মেল হকের ভাতিজা প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক গত ৩১/১২/২০০২ ইং তারিখে নিজ এলাকার ‘তেঁতুলতলা (মুনসিদপুর) হতে মাধপুর (বগামিয়া) সড়ক’ টি শহীদ চাচার স্মৃতি ধরে রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসক পাবনা বরাবর রাস্তার নামকরণে আবেদন করেন। ওই সময়ে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, ঈশ^রদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এবং পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড থেকে সুপারিশ করা হয়।

গত ০২/০৩/২০০২ ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। গত ০৩/০৩/২০০২ ইং তারিখে ঈশ্বরদী এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলীকে রাস্তাটির আর কোন নাম আছে কিনা তার যাচাইয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ০৭/০৩/২০০২ তারিখে এলজিইডি থেকে অনাপত্তি জানানো হয়। পরবর্তীতে গত ২০/০৩/২০০২ ইং তারিখে তৎকালীন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে সড়কটির নামকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

শহীদ তোজ্জাম্মেল হকের ভাতিজা আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক জানান, সরকারি ভাবে সড়কের নামকরণ অনুমোদন লাভের পর এলাকাবাসী ও পরিবারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সড়কের দু’প্রান্তে দুটো নামফলক স্থাপন করা হয়। গত ২৫/০৯/২০২২ ইং তারিখে পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্বপরিবারে আমেরিকায় অবস্থান করার সুযোগে স্থানীয় একটি কুচক্রি মহল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক সড়কের দুপাশের নামফলক রাতের আধারে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলে। পরবর্তীতে দাশুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজসে প্রয়াত ইউপি মেম্বার আব্দুস সাত্তারের নামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হক সড়কের নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়ম বর্হিভূত ভাবে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত সড়কটির নাম পরিবর্তন করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল কাজ করা হয়েছে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের ছোট ভাই মোঃ সিরাজুল হক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমার ভাই দেশের জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আমরা তার স্মৃতি ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারি ভাবে রাস্তাটির নাম আমার ভাইয়ের নামে পেয়েছিলাম। অজ্ঞাত কারণে তার নাম বাদ দিয়ে একজন ইউপি সদস্যের নামে নামকরণ করে একজন শহীদের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়েছে। আমি অবিলম্বে আমার শহীদ ভাইয়ের নামে এই রাস্তার নামকরণ ফিরে পেতে চাই।

স্থানীয় নওছের আলী প্রামানিক, মাহবুবুর রহমান, নবাব আলী, তরিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। ২০ বছর আগে তার পরিবারের প্রচেষ্টায় সরকার এই রাস্তার নামকরণ করে দিয়েছে। হঠাৎ কিভাবে রাস্তাটির নাম বদলে দেয়া হলো বিষয়টি আমাদের বুঝে আসে না। এটি জঘন্য কাজের সামিল। আমরা দ্রুত রাস্তার পূর্বের নাম বহাল রাখার জোর দাবী জানাচ্ছি।

তেতুলতলা মোড়ের সাইকেল মেকার কবির হোসেন বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হকের নামে সড়কটির নামকরণ সাইনবোর্ড দেখেছি ২০ বছর আগে। হঠাৎ শুনতে পেলাম নাম পরিবর্তন করেছে চেয়ারম্যান। বিষয়টি আমাদেরকে খুব মর্মাহত করছে।দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড মেম্বার ইমদাদ হোসেন বলেন, একজনের নামে রাস্তা আছে এটা জানলে নিশ্চয়ই চেয়ারম্যান এটা করতেন না। তার না জানার কারনে এমনটি হতে পারে বলে মনে করছি।

দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বকুল সরদারের সাথে যোগাযোগ করলে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানীদের কখনো ছোট করতে চাই না। যদি এমন ঘটনা ঘটে এ জন্য আমি দুঃখিত এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পি. এম. ইমরুল কায়েস বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে আমার। তার অজ্ঞতার কারনে এমনটি হয়েছে। তিনি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে দেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন৷ যদি ব্যতয় ঘটে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন...


এই বিভাগের আরো খবর........
.
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !