শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুই সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন চাটমোহরে বড়াল নদী রক্ষায় করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা পাবনায় বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে ব্রিজক্রেন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকের মৃত্যু ঈশ্বরদীতে আখের সঙ্গে সাথি ফসল চাষে ভাগ্য ফিরছে কৃষকের ঈশ্বরদীতে দুপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে রাতেয় স্ত্রীকে হত্যা ঈশ্বরদী রেলওয়ে লোকোমোটিভ পরিদর্শন করলেন রেলপথ সচিব ঈশ্বরদীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উদ্‌যাপন ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নে কেক কেটে শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিন পালন

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরদীতে গ্রামীন ঐতিহ্য মৃৎশিল্প

মোঃ আশরাফুল ইসলাম
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
মাটির তৈরী তৈজসপত্র তৈরীতে কাজ করছেন।

ঈশ্বরদীতে গ্রামীণ ঐতিহ্য মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির তৈরী তৈজসপত্রের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। ফলে এ শিল্পের সাথে জরিত পাল সম্প্রদায়ের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মাটির তৈরী কলসী, দইয়ের খুটি, কড়াই, সরা, ব্যাংক, ঝাঁঝুড়, চাড়ি, তবাক, কোলা, রসের হাড়ি, কুপের পাটসহ সংসারের নিত্য প্রয়োজনে মাটির তৈরী তৈজসপত্র ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে মাটির তৈরী এসব তৈজসপত্রের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখন চকচকে সিলভারের হাড়ি পাতিল, মেলামাইন ও প্লাষ্টিকের বাসন এবং বিদ্যুৎ চালিত রাইসকুকার, রুটি মেকারও ব্যবহার করছেন। গ্রামে আধুনিকতার ছোয়ায় মাটির তৈরী তৈজসপত্রের চাহিদা একেবারেই কমে গেছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে।

মাটির অভাব এবং জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির ফলে এ শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা পাল সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো দিশেহারা হয়ে পরেছেন। অনেকে ইতিমধ্যে এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।ঈশ্বরদী উপজেলার  মুলাডুলি ও সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়ীয়ায় প্রায় তিন শতাধিক পাল পরিবার মৃৎশিল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন। এখনও শতাধিক পরিবার এ পেশার সাথে যুক্ত রয়েছেন। তারা রুটি রুজি, জীবন ধারণ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ যোগান দিয়ে আসছেন এ পেশাকে আশ্রয় করে।

উপজেলার মুলাডুলি পাল পাড়ার পরিতোষ পাল জানান, আমাদের সাথে বাড়ির বৌ ঝিরাও কাদা মাটি দিয়ে দইয়ের খুটি, কড়াই, সরা, রসের হাড়ি, পায়খানার কূপে ব্যবহারের রিং তৈরী করছে।

একই এলাকার রবি পাল জানান, প্রতি বস্তা কাঠের গুড়ার দাম ১৫০ টাকায় পৌছেছে। গোবর থেকে তৈরী জ্বালানী ও ধানের খড়ের দামও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাড়লেও আমাদের তৈরী জিনিষপত্রের চাহিদা কমছে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারী-বেসরকারী সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান যদি মৃৎশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয় তাহলে এই শিল্পটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প অচিরেই হারিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন...


এই বিভাগের আরো খবর........
.
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: কপি করার অনুমতি নেই !
error: কপি করার অনুমতি নেই !